এক নজরে পাইলসের/অর্শ রোগের কারণ, লক্ষন ও চিকিৎসা।

পাইলস খুবই পরিচিত একটি রোগ। মলদ্বারের ভেতরে বা মলদ্বারে চারপাশে ত্বকের নিচে এ রোগ হয়ে থাকে। পাইলসের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া , মলদ্বারে মাংসপিণ্ড ফুলে ওঠা, যা কখনো কখনো মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়ে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এ সময় যে রক্ত পড়ে, সেটি সাধারণত টাটকা লাল হয়ে থাকে।

এক নজরে পাইলসের/অর্শ রোগের কারণ, লক্ষন ও চিকিৎসা।

পায়ু পথে ক্যান্সার হলেও রক্ত যায়। তাই নিজের সিদ্ধান্ত নেবেন না আপনার পাইলস হয়েছে। মলদ্বারের ভেতর বিশেষ ধরনের পরীক্ষা যেমন সিগময়স্কপি বা কোলন স্কোপি ছাড়া কারো পক্ষে সঠিক রোগ নির্ধারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয় । এসব সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ক্যান্সারের প্রাথমিক ১০টি লক্ষণ দেখে সতর্ক হোন।

পাইলসের কারণ

  • অন্ত্রের নড়াচড়ার সময় স্ট্রেন করা 
  • টয়লেটে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা 
  • দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া
  •  স্থুল হওয়া 
  • গর্ভবতী মলদ্বারে সহবাস 
  • এবং কম আশযুক্ত খাবার খাওয়া।.

কখন অপারেশন করাবেন

অনেকে মনে করেন পাইলস বা অর্শ হলেই অস্ত্র প্রচার করতে হয় । বিষয়টি এমন নয় আর এজন্য অনেকে চিকিৎসকের কাছে যেতে ভয় পান।

অনেক রোগী প্রশ্ন করে থাকেন, অপারেশন ছাড়া ঠিক করা যাবে কিনা ? সার্জারীর পরে সেটি আবার হবে কিনা। সাধারণত ফার্স্ট ডিগ্রী পাইলস যখন থাকে, তখন সাধারণত সার্জারীর জন্য পরামর্শ দেয়া হয় না। তখন ঔষধ দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে পাইলসের সম্পর্ক নীবিড়। এনাল ফিসারের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দায়ী এবং এর জন্য পাইলস বাড়তে থাকে।

প্রাথমিক পর্যায়ে যখন চিকিৎসকের কাছে রুগী আসে, চিকিৎসার দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথমত, রোগের জীবন যাপন পরিবর্তন করা ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা। এজন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা, শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজনে ইসুবগুলের ভুসি খেতে পারেন।

এরপর যখন সেকেন্ড ডিগ্রিতে আসে সে ক্ষেত্রেও ওষুধ পত্র ও পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর রোগের অবস্থা উন্নতি না হলে তখন কাটা ছেঁড়া ছাড়াও এ রোগের চিকিৎসা করা যায়।

তখন একটা প্রসিডিউর করা হয় ,যেটাকে বলা হয় ব্যান্ডিং। একটি রাবার ব্যান্ডের মতো জিনিস, যেটা রক্তনালীর টিউমারের মুখে পরিয়ে দেওয়া হয়। তখন পাইলস অটোমেটিক্যালি শুকিয়ে ঝরে যায়। এক্ষেত্রে কোন কাটাছেঁড়া করতে হয় না। আগের চেয়েও যদি বেড়ে যায় থার্ড বা ফোর ডিগ্রী থেকে চলে আসে, তখন সার্জারি করা হয়। তবে এখন মলদ্বারের কাছে খুব বেশি কাটা ছাড়া প্রয়োজন হয় না। আগে কাটাছেড়া করা হতো, তখন খুব ব্যাথ হতো, রস ঝরতো। বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা হতো। এখন মিশেনের সাহায্য অপারেশন করা হয় বলে,এ অসুবিধা গুলো হয় না। অস্ত্রপ্রচারের এক থেকে দুই দিনের মধ্যে রোগীরা বাসায় যেতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  এক নজরে শিশুদের পাইলস রোগের কারণ, লক্ষন ও চিকিৎসা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url