শীতে পা ফাটা থেকে মুক্তির উপায়- শীতে পা ফাটা রোধে করণীয়

শীতে পা ফাটা

বাতাসে শীতের পরশ আসতে না আসতে অনেকের পায়ের গোড়ালি ফাটতে শুরু করে। ঠান্ডা যত বাড়তে থাকে ,পায়ের গোড়ালিও তত বেশি ফাটতে থাকে। শীতকালে ফাটা গোড়ালি যেমন দেখতে খারাপ লাগে, অনেকের কাছে সেটা যন্ত্রানায়ক।

শীতে পা ফাটা থেকে মুক্তির উপায়- শীতে পা ফাটা রোধে করণীয়

যাদের পা ফাটার সমস্যা আছে, তারা সারাবছর পায়ের যত্ন নিতে ভুলবেন না। তাহলে শীতকালে অনেকটাই এড়াতে পারবেন এ সমস্যা। শীতের যাদের গোড়ালি ফাটে,তারা সারা বছর পায়ে ময়েশ্চারাইজারের প্রলেপ দিতে পারেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঘরোয়া কিছু উপায়। যা ব্যবহার করে পা ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন : শীতে সর্দি-কাশিতে ভুগতেছেন ? জেনে নিন কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় 

পোস্ট সূচিপত্র

এক্সফোলিয়েশন আবশ্যক :

পায়ের ত্বকের মৃত কোষ প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে, জমতে দিলেই কিন্ত কড় পড়ার আশঙ্কা বাড়বে। চালের গুড়ো ,মধু, লেবুর রস ,দুধের সর দিয়ে ঘরোয়া স্ক্রাব তৈরে করে নিন। ফুটবাথ নেওয়ার পর এই প্যাক লাাগিয়ে খানিক্ষণ রাখুন। শুকানো হয়ে গেল ঘষে ঘষে তুলবেন-চক্রাকারে হাত চালিয়ে ঘষলে খুব ভালো স্ক্রাবিং হয়।

পেয়াজের ব্যবহার  :

পায়ের গোড়ালির ফাটা দাগ দূর করতে পেয়াজের রস খুবই উপকারী। প্রথমে পেয়াজ ভালো করে পিষে রস বানিয়ে নিন। এই রসের মধ্যে এবার এক চামচ মধু মেশান। মধু না থাকলে বিকল্প হিসেবে অলিভ অয়েলেও নিতে পারেন। এবার গোড়ালিতে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ২০/৩০ মিনিট ম্যাসাজ করার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দেখবেন ফাটা দাগ দূর হয়ে গেছে।

অ্যালোভেরা জেল আর অলিভ অয়েলের প্যাক :

ফুটবাথ নেওয়ার পর অ্যালোভেরা জেল আর অলিভ অয়েলের একটা মিশ্রন তৈরি করে পুরো পায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন।  তরপর একটা মোজা পরে থাকুন। এটা আপনি অফিসে আসার আগেও করতে পারেন। সারাদিন পা নরম থাকবে।

ভিটামিন ই তেল আর পেট্রোলিয়াম জেলির মিশ্রন :

কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলে ফুটো করে তেলটা বের করে নিন। তরপর পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে ভিটামিন ই মিশিয়ে সেটা পায়ে মেখে ফেলুন। রাতের দিকে এই প্রলেপ লাগিয়ে মোজা পায়ে দিয়ে শুলে দারুন নরম থাকবে পা। 

মধু ও গরম পানির ব্যবহার :

প্রথমে মধু এবং গরম পানি ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর আলতো করে গোড়ালিতে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন-চার দিন ব্যবহারে দারুণ উপকার পাবেন

ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার :

শীতকালে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। তবে সারা বছর ব্যবহার না করলেও এ সময় ব্যবহার করলে পা ফাটা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যাদের কাজের প্রয়োজনে বেশি হাটাহাটি করতে হয় বা যারা দীর্ঘ সময় ধরে দাড়িয়ে থাকেন, তাদের পা ফাটার প্রবণতা আরো বেশি হয়।

মোজার কার্যকারিতা :

শীতে পা ফাটা থেকে বাচতে বাইরে বের হওয়ার আগেই উলের বা সুতির মোজ ব্যবহার করতে পারে। সঙ্গে, পা ঢাকা জুতা পরতে একদম ভুলবেন না। বাড়িতেও স্লিপারের সঙ্গে সুতির মোজা পরে থাকা ভালো।

কর্মরতদের অনেকেই এখন সারা বছর পায়ে সুতির মোজা পরেন। এতে পা ভালো থাকে। কষ্ট হলেও গরমে যদি বাড়ির বাইরে বের হলে সুতির মোজা পরে থাকতে পারেন, তাহলে শীতকালে ‍উপকার পাবেন।

অনেকেই কমবে পা ফাটার সমস্যা। জুতা কিংবা মোজায় যেমন পায়ের আদ্রতা বজায় থাকে, তেমনই অন্যদিকে জীবাণু থেকেও রক্ষা পায় পা । আরেকটি জিনিস পায়ের জন্য নিয়মিত করুন। হালকা গরম পানিতে পায়ের গোড়ালি  ডুবিয়ে বসুন। তারপর ভালো করে পা মুছে ক্রিম লাগান। 

সব চেয়ে ভালো হয়, যদি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটা করতে পারেন। মোছার পরে শুকনো পায়ে ক্রিম লাগিয়ে সুতির মোজা পরে ঘুমিয়ে পড়ুন। না হয়, অন্য যে কোন সময় এটা করতে পারেন।

শুষ্ক বাতাসে পায়ের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার জন্যই ত্বক ফাটতে শুরু করে। প্রয়োজনের তুলনায় পানি পান কম হলে বা দীর্ঘক্ষণ গরম পানিতে গোসল করলেও পা ফাটার প্রবণতা বোড়ে। যারা ঝামাপাথর দিয়ে জোরে জোরে ঘষে পা পরিষ্কার করেন, তাদেরও পা ফাটার আশংকা অনেক বেশি।
 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url